১০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনফাইল ছবি: ইউএনবি

টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা: সংকট কাটলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০২:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 41

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংকট কাটার পর কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দোষী ব্যক্তি নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার সরকারি টিকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করব না, সেটা বলিনি। এখন আমরা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা (সংকট) শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’ দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে ৪০০–এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন জটিলতায় টিকা কেনা হয়নি। শিশুরা সময়মতো টিকা না পাওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অভিযোগ করে এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবিতে আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’–এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন একদল আইনজীবী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন এর মধ্যে এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে ও বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ বলেন, ‘টিকা নিয়ে কী ভুল করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান। আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আইসোলেশন, আইসিইউ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন হামের পরই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর দিয়েছেন একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যোক্তা। আমরা সেগুলো আজ বণ্টন করব।’ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছেন, আমরাও চেষ্টা করছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আজ চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের চীন সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল বা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা অ্যান্টি–র‍্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু করেছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিন এর বাইরে থাকব না। প্রতিটা ভ্যাকসিন এখন চলছে।’

ভিটামিন এ ক্যাপসুলের বিষয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু কম আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ ক্যাপসুলও পেয়ে যাব। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

×
27 July 2026 10:04


ট্যাগ :
abc

DAINIK SHESSONGBAD

 

 

THIS NEWS PAPER WEBSITE
IS ONLY FOR 7 DAYS

This will close in 20 seconds

Jaffrey Alam

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনফাইল ছবি: ইউএনবি

টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা: সংকট কাটলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়

আপডেট এর সময় : ০২:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংকট কাটার পর কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দোষী ব্যক্তি নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার সরকারি টিকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করব না, সেটা বলিনি। এখন আমরা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এই ক্রাইসিসটা (সংকট) শেষ হলেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’ দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে ৪০০–এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন জটিলতায় টিকা কেনা হয়নি। শিশুরা সময়মতো টিকা না পাওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অভিযোগ করে এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবিতে আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’–এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন একদল আইনজীবী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন এর মধ্যে এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে ও বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ বলেন, ‘টিকা নিয়ে কী ভুল করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান। আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আইসোলেশন, আইসিইউ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন হামের পরই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর দিয়েছেন একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যোক্তা। আমরা সেগুলো আজ বণ্টন করব।’ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছেন, আমরাও চেষ্টা করছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আজ চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের চীন সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল বা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা অ্যান্টি–র‍্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু করেছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিন এর বাইরে থাকব না। প্রতিটা ভ্যাকসিন এখন চলছে।’

ভিটামিন এ ক্যাপসুলের বিষয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু কম আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ ক্যাপসুলও পেয়ে যাব। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

×
27 July 2026 10:04