০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসির ২ কর্মচারী গ্রেফতার: মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডির তথ্য বিক্রি করে আয় ১১ কোটি টাকা

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৩:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 34

নির্বাচন কমিশনের এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন—গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)।

সিআইডি বলছে, মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, গ্রেফতার আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন মো. আলামিন।

অপরদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার আরও বলেন, অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।

গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য বিক্রি করতেন।

এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই ডিআইজি বলেন, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

×
12 September 2026 14:17


ট্যাগ :
abc

DAINIK SHESSONGBAD

 

 

THIS NEWS PAPER WEBSITE
IS ONLY FOR 7 DAYS

This will close in 20 seconds

Jaffrey Alam

ইসির ২ কর্মচারী গ্রেফতার: মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডির তথ্য বিক্রি করে আয় ১১ কোটি টাকা

আপডেট এর সময় : ০৩:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন—গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)।

সিআইডি বলছে, মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, গ্রেফতার আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন মো. আলামিন।

অপরদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার আরও বলেন, অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।

গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য বিক্রি করতেন।

এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই ডিআইজি বলেন, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

×
12 September 2026 14:17