০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় ভুক্তভোগীর অস্তিত্ব পায়নি পিবিআই

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৬:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 21

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট এবং ৬৭টি সিআর মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

পিবিআই জানায়, পরিপূর্ণ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জিগাতলার শরিফ (৩৭) বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভুক্তভোগী হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭), পিতা–মো. কুদ্দুস, ঠিকানা–৩৮ ট্যানারী মোড়, হাজারীবাগ, ঢাকার নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আহত হিসেবে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী দাবি করে আরও ৯ জনের কেবল নাম উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার মিনা বাজারের আশপাশ এবং ঘটনার সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১১টা উল্লেখ করা হয়।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়। বাদী এজাহারে সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করলেও তদন্তে উঠে আসে উভয়ের ঠিকানা ভিন্ন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানা ও বাদীর ঠিকানায় সাহেদ আলী নামে কোনো ব্যক্তি কখনো বসবাস করেননি এবং তিনি বাদীর ভাই নন। ভুক্তভোগীর নামে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে সেটিকে ভুয়া পাওয়া যায় এবং ওই এনআইডির সঙ্গে কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিতও ছিল না।

পিবিআই আরও জানায়, ভুক্তভোগীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমান্ত স্কয়ারের নাম উল্লেখ থাকায় মার্কেট কমিটির সঙ্গে লিখিত ও সরাসরি যোগাযোগ করা হলেও সাহেদ আলী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে অন্যান্য ভুক্তভোগীর বিষয়ে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় উল্লিখিত নামের কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পিবিআই জানায়, বাদীকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও সরাসরি সাক্ষাতে যেকোনো ভুক্তভোগী হাজির করতে বলা হলেও তিনি কাউকে উপস্থাপন করতে পারেননি। পাশাপাশি বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করা হয়নি।

এছাড়া ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উল্লেখিত সময় ও স্থানে কোনো ধরনের সহিংস বা হত্যাচেষ্টার ঘটনা সংঘটিত হয়নি।

সার্বিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানানো হয়।

×
28 July 2026 13:43


ট্যাগ :
abc

DAINIK SHESSONGBAD

 

 

THIS NEWS PAPER WEBSITE
IS ONLY FOR 7 DAYS

This will close in 20 seconds

Jaffrey Alam

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় ভুক্তভোগীর অস্তিত্ব পায়নি পিবিআই

আপডেট এর সময় : ০৬:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাসহ সব মামলা আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট এবং ৬৭টি সিআর মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

পিবিআই জানায়, পরিপূর্ণ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জিগাতলার শরিফ (৩৭) বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভুক্তভোগী হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭), পিতা–মো. কুদ্দুস, ঠিকানা–৩৮ ট্যানারী মোড়, হাজারীবাগ, ঢাকার নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আহত হিসেবে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী দাবি করে আরও ৯ জনের কেবল নাম উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার মিনা বাজারের আশপাশ এবং ঘটনার সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১১টা উল্লেখ করা হয়।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়। বাদী এজাহারে সাহেদ আলীকে তার ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করলেও তদন্তে উঠে আসে উভয়ের ঠিকানা ভিন্ন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানা ও বাদীর ঠিকানায় সাহেদ আলী নামে কোনো ব্যক্তি কখনো বসবাস করেননি এবং তিনি বাদীর ভাই নন। ভুক্তভোগীর নামে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে সেটিকে ভুয়া পাওয়া যায় এবং ওই এনআইডির সঙ্গে কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিতও ছিল না।

পিবিআই আরও জানায়, ভুক্তভোগীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমান্ত স্কয়ারের নাম উল্লেখ থাকায় মার্কেট কমিটির সঙ্গে লিখিত ও সরাসরি যোগাযোগ করা হলেও সাহেদ আলী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে অন্যান্য ভুক্তভোগীর বিষয়ে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় উল্লিখিত নামের কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পিবিআই জানায়, বাদীকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও সরাসরি সাক্ষাতে যেকোনো ভুক্তভোগী হাজির করতে বলা হলেও তিনি কাউকে উপস্থাপন করতে পারেননি। পাশাপাশি বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করা হয়নি।

এছাড়া ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উল্লেখিত সময় ও স্থানে কোনো ধরনের সহিংস বা হত্যাচেষ্টার ঘটনা সংঘটিত হয়নি।

সার্বিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানানো হয়।

×
28 July 2026 13:43