০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর-১ আসনে খন্দকার নাসিরের মনোনয়ন কি বাতিল হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেন শাহ মো. আবু জাফর

Jaffrey Alam
  • আপডেট এর সময় : ০৭:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 25

ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ভিত্তিতে নাসিরের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আপিল করেছেন ওই আসনের অপর প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর। আপিলের রায় তাঁর পক্ষে এলে খন্দকার নাসিরের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শাহ মো. আবু জাফর রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে এই আপিল দায়ের করেন। শাহ জাফর ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় খন্দকার নাসিরের দাখিল করা নথিপত্রে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, দাখিলকৃত আয়কর সনদ প্রার্থীর নিজের নামে ইস্যুকৃত ছিল না। এছাড়া আয়কর নথিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরও কিছু কাগজপত্র আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য ছিল।

নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রিটার্নিং অফিসার ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা আইন ও বিধির সমতা প্রয়োগ না করে খন্দকার নাসিরের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে তা স্থগিত রাখেন। সেইসঙ্গে বিকেল চারটা পর্যন্ত সংশোধনের সুযোগ দেন।

অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ, এটি ছিল স্পষ্টভাবে আইনবহির্ভূত বিশেষ সুবিধা, যা নির্বাচনের সমান মাঠ অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করেছে। নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীর প্রতি রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি বলেও তাদের অভিযোগ।

শাহ মো. আবু জাফর এসব অভিযোগ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, খন্দকার নাসিরের মনোনয়নপত্র আইন অনুযায়ী বাতিল ঘোষণা করা হোক। সেইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

শাহ মো. আবু জাফর বলেন, ‘একজন প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মনোনয়ন টিকিয়ে রাখা হলে তা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। আমি ন্যায়বিচারের জন্যই নির্বাচন কমিশনে গিয়েছি।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শাহ মো. আবু জাফরের করা আপিলের শুনানি হবে। ওই শুনানির রায় থেকে জানা যাবে, খন্দকার নাসিরের মনোনয়ন টিকবে কি না। তাই এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে।

বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। কমিশনের রায় খন্দকার নাসিরের বিপক্ষে গেলে ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
28 July 2026 15:57


ট্যাগ :
abc

DAINIK SHESSONGBAD

 

 

THIS NEWS PAPER WEBSITE
IS ONLY FOR 7 DAYS

This will close in 20 seconds

Jaffrey Alam

ফরিদপুর-১ আসনে খন্দকার নাসিরের মনোনয়ন কি বাতিল হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেন শাহ মো. আবু জাফর

আপডেট এর সময় : ০৭:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ভিত্তিতে নাসিরের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আপিল করেছেন ওই আসনের অপর প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর। আপিলের রায় তাঁর পক্ষে এলে খন্দকার নাসিরের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শাহ মো. আবু জাফর রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে এই আপিল দায়ের করেন। শাহ জাফর ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় খন্দকার নাসিরের দাখিল করা নথিপত্রে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, দাখিলকৃত আয়কর সনদ প্রার্থীর নিজের নামে ইস্যুকৃত ছিল না। এছাড়া আয়কর নথিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরও কিছু কাগজপত্র আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য ছিল।

নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রিটার্নিং অফিসার ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা আইন ও বিধির সমতা প্রয়োগ না করে খন্দকার নাসিরের মনোনয়নপত্র বাতিল না করে তা স্থগিত রাখেন। সেইসঙ্গে বিকেল চারটা পর্যন্ত সংশোধনের সুযোগ দেন।

অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ, এটি ছিল স্পষ্টভাবে আইনবহির্ভূত বিশেষ সুবিধা, যা নির্বাচনের সমান মাঠ অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করেছে। নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীর প্রতি রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি বলেও তাদের অভিযোগ।

শাহ মো. আবু জাফর এসব অভিযোগ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, খন্দকার নাসিরের মনোনয়নপত্র আইন অনুযায়ী বাতিল ঘোষণা করা হোক। সেইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

শাহ মো. আবু জাফর বলেন, ‘একজন প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মনোনয়ন টিকিয়ে রাখা হলে তা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। আমি ন্যায়বিচারের জন্যই নির্বাচন কমিশনে গিয়েছি।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শাহ মো. আবু জাফরের করা আপিলের শুনানি হবে। ওই শুনানির রায় থেকে জানা যাবে, খন্দকার নাসিরের মনোনয়ন টিকবে কি না। তাই এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে।

বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। কমিশনের রায় খন্দকার নাসিরের বিপক্ষে গেলে ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
28 July 2026 15:57