এতো অভিযোগের পরও কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে কাস্টমসের আরিফুল
- আপডেট এর সময় : ১০:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 406
মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব। ২৮ তম বিসিএসে চাকরি পাওয়ার পর যেন জাদুর মতো বদলে যায় কিশোরগঞ্জের এক শিক্ষকের ছেলে আরিফুলের জীবন।
এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানান অভিযোগ উঠলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশির্বাদে জল আর সামনে গড়ায়নি। অভিযোগ রয়েছে এনবিআরের ব্যাপক সমালোচিত ওএসডি হওয়া মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরীর আস্থাভাজন এই আরিফুল। যে কারণে এনবিআর আন্দোলনের খড়গ ঝুলিয়ে আমীমুল ইহসানকে সরিয়ে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব হিসেবে নিয়ে আসেন। অথচ ঢাকা কাস্টম হাউসে নানান কর্মকাণ্ডের জন্য তিন মাসের মাথায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় আরিফুল ইসলামকে।
বিতর্কিত এই ব্যক্তি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশির্বাদের সুযোগটা ভালই কাজে লাগিয়েছেন। যার প্রতিফলন দেখা গেছে তার আয়কর নথিতে। কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের আয়কর নথি বিশ্লেষনে দেখা যায়, মিরপুর হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট, পাইপাড়ায় জমি, উত্তর মেরাদিয়া রয়েছে প্লট, এছাড়া খিলগাঁও ৩ ও ৭৪ নং ওয়ার্ড এবং কাফরুল থানার ১৬ নং ওয়ার্ডেও জমি আছে এই কাস্টমস কর্মকর্তার। তার ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার এফডিআর চোখ ছাড়াবড়া করে তুলবে যে কারও। এছাড়া ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী তার বিনিয়োগ সোয়া ১০ লাখ টাকার বেশি দেখানো হয়েছে আয়কর নথিতে । দামি গাড়ি ছাড়াও এই ধনকুবেরের রয়েছে ৫৭ ভোরি স্বর্ণ।
কাস্টম হাউসে বিগত দিনে তিনি কি করেছেন তার সুস্পষ্ট একধা ধারণা পাওয়া যায় এই আয়কর নথিতে।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীদি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া এক অভিযোগে বলে হয়, ধুর্ত এই কর্মকর্তা বিগত দিনে ছাত্রলীগের লেবাসে ফ্যাসিস্টি আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। ক্ষমতার পালা বদলে ভোল পাল্টান তিনি নিজেও। যে কারণে আরিফুল এখন কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব। অভিযোগে আরও বলা হয়, কিশোরগঞ্জে একজন সাধারণ শিক্ষকের ছেলে আরিফুল লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য গ্রামের বাড়িতে খুব একটা সম্পদ গড়েননি। তবে রাজধানীর বুকে রয়েছে তার সম্পদের পাহাড়। স্থানীয়রা তাকে ম্যাজিস্টেট সাহেব হিসেবেই চেনেন। যে কারণে এলাকাতেও রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। অভিযোগে আরও বলা হয়, আরিফুলের বেশ দহররম-মহররম ছিলো আওয়ামী পন্থি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। যেখান থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে শুধু নিজ নামেই নয়, স্ত্রীর নামেও গড়েছেন বেশকিছু সম্পদ। যদিও ধুর্ত এই কাস্টমস কর্মকর্তা তার আয়কর নথিতে সম্পদের বিবরণীতে ঠিকানার তথ্য দিয়েছেন আংশিক। এমন বেশকিছু ছলচাতুরি ছাড়াও, তার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটায় চাকরি হয়েছে কিনা সে বিষয়েটিও খতিয়ে দেয়ার দাবি করা হয়েছে দুদকে দায়ের হওয়া অভিযোগে। অভিযোগ বিষয়ে মুঠোফোন আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে। তিনি সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। (প্রথম পর্ব)
